Browse My Shelf Blog
Sign In
★ Bestselling Ebook

Quran Stories of Prophets — with Ayah References

By EboiPro Team

A complete compilation of all the Prophets' stories mentioned in the Holy Quran. The events scattered across different Surahs are arranged serially together — with original Arabic, pure English translation, and Surah-Ayah references. At the end of each event, there are lessons for our lives.

৳ 250 ৳ 750
Lifetime Access
Loading reviews…
EboiPro
কুরআনের
ঘটনাবলি
নবীদের জীবন — সূরা ও আয়াত রেফারেন্সসহ
🕌২৫ নবীর ঘটনা
📖মূল আরবি ও বাংলা
💡ঘটনার শিক্ষা
সম্পূর্ণ সিরিয়াল সংকলন
মাত্র ৳২৯৯
100% Secure Payment
Works on any device
Lifetime Access & Updates

Watch the video to learn more

Watch this short video to understand why this book is essential for you.

Video Coming Soon

The detailed introductory video for this course will be added here shortly.

নবীদের জীবনের শিক্ষণীয় ঘটনা দিয়ে জীবন সাজাতে চান?

কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনের গল্পগুলো শুধু ইতিহাস নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান। এই বইটিতে আমরা নবীদের জীবনের ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় তুলে ধরেছি, যা আপনার ঈমানকে তাজা করবে এবং জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে।

বইটির বিশেষত্ব

কীভাবে এই বইটি আপনাকে সাহায্য করবে?

📖

কুরআনের আলোকে

প্রতিটি ঘটনা সরাসরি কুরআন ও সহীহ হাদিসের রেফারেন্স সহ সহজ ভাষায় লেখা।

💡

বাস্তব জীবনের শিক্ষা

ইতিহাসের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনা থেকে আধুনিক জীবনের জন্য কী শিক্ষণীয় তা আলোচনা করা হয়েছে।

👨‍👩‍👧‍👦

পরিবারের সবার জন্য

বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও সমান উপযোগী এবং আকর্ষণীয়।

Who is this book for?

If you relate to any of the following, this book was made for you.

💡

Those who want to learn easily and quickly.

🚀

Those looking to bring positive change to their lives.

🛡️

Those seeking a reliable, practical guide.

📱

Those who love reading comfortably on their smartphone or laptop.

Why do you need this book?

A quick look at what you'll achieve and get after reading this book.

🕌 Complete stories of 25 Prophets of the Holy Quran in one book

📖 Events scattered across different Surahs arranged chronologically together

🌿 নির্ভুল মূল আরবি পাঠ (উসমানী স্ক্রিপ্ট, তাশকিলসহ)

📜 সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদ — জটিল ভাষা নেই

🔖 প্রতিটি আয়াতের সাথে সূরা ও আয়াত নম্বর রেফারেন্স

💡 প্রতিটি ঘটনার শেষে আমাদের জীবনের জন্য মূল শিক্ষা

This is not just a book, it's a complete interactive life course

✏️

Highlights & Notes

Select text to highlight in colour and attach personal notes.

🔊

Read Aloud

Listen to the book hands-free. Control speed and voice to suit your preference.

🗺️

Guided Reading Path

Resume exactly where you left off — any device, any time.

What's Inside? (Table of Contents)

  • 📚 ভূমিকা: কুরআনে কেন ঘটনা বলা হয়েছে?
  • 📚 অধ্যায় ১: হযরত আদম আলাইহিস সালাম — সৃষ্টির সেরা মানুষ
  • 📚 অধ্যায় ২: হযরত ইদরিস আলাইহিস সালাম — উচ্চ মর্যাদার নবী
  • 📚 অধ্যায় ৩: হযরত নূহ আলাইহিস সালাম — মহাপ্লাবনের নবী
  • 📚 অধ্যায় ৪: হযরত হূদ আলাইহিস সালাম — আদ জাতির নবী
  • 📚 অধ্যায় ৫: হযরত সালিহ আলাইহিস সালাম — সামুদ জাতির নবী
  • 📚 অধ্যায় ৬: হযরত ইবরাহিম (আ.) — আগুন, কাবা ও কুরবানি
  • 📚 অধ্যায় ৭: হযরত লূত (আ.) — ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর
  • 📚 অধ্যায় ৮: হযরত শুআইব (আ.) — মাদইয়ানের জাতি
  • 📚 অধ্যায় ৯: হযরত আইয়ুব (আ.) — ধৈর্যের মহান আদর্শ
  • 📚 অধ্যায় ১০: হযরত ইউনুস (আ.) — মাছের পেটে তিন দিন
  • 📚 অধ্যায় ১১: হযরত ইউসুফ (আ.) — কূপ থেকে মিশরের মন্ত্রী
  • 📚 অধ্যায় ১২: হযরত মুসা (আ.) — ফেরাউনের পতন ও সাগর বিভাজন
  • 📚 অধ্যায় ১৩: হযরত মুসা ও খিজির (আ.) — ঐশী জ্ঞানের অন্বেষণ
  • 📚 অধ্যায় ১৪: লুকমান হেকিম — একজন প্রজ্ঞাবান পিতার উপদেশ
  • 📚 অধ্যায় ১৫: হযরত দাউদ (আ.) — পরাক্রমশালী রাজা ও নবী
  • 📚 অধ্যায় ১৬: হযরত সুলাইমান (আ.) — জিন ও পশুপাখির শাসক
  • 📚 অধ্যায় ১৭: হযরত ইলিয়াস (আ.) — মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে আপসহীন নবী
  • 📚 অধ্যায় ১৮: হযরত উযাইর (আ.) — মৃত্যুর একশ বছর পর পুনরুত্থান
  • 📚 অধ্যায় ১৯: যুল-কারনাইন — ন্যায়পরায়ণ বিশ্ববিজেতা
  • 📚 অধ্যায় ২০: হযরত জাকারিয়া ও ইয়াহইয়া (আ.) — দোআর অলৌকিক ফল
  • 📚 অধ্যায় ২১: হযরত ঈসা (আ.) — কুমারী মারইয়ামের পুত্র
  • 📚 অধ্যায় ২২: আসহাবুল কাহফ — গুহাবাসী একদল ঈমানদার যুবক
  • 📚 অধ্যায় ২৩: হযরত মুহাম্মদ (সা.) — শেষ নবীর ঘটনাবলি

🔒 Preview notice:

The full book unlocks after purchase. Sign in to buy and start reading instantly.

Why read this book?

This book has been prepared by arranging the stories of the Prophets scattered in different Surahs of the Holy Quran together.

  • Accurate Arabic: With complete Tashkeel in Uthmani script.
  • Clear English Meaning: Fluent and easy-to-understand English translation, suitable for readers of all ages.
  • Audio Recitation: Recitation of the world-famous Qari Mishary Al-Alafasy is attached to each verse.
  • References: Specific Surah and Ayah numbers are mentioned for each event.

Who is this book for?

  • Those who want to know the historical events of the Quran chronologically.
  • Those who love to read the verses of the Quran and their meanings together.
  • Those who want to take lessons (Lessons Learned) for their own lives from each event.
  • An excellent supplementary book to teach children and teenagers the correct history of Islam.
Free Preview

Read Chapter 1 For Free

Experience the premium reader interface below. You will get this exact same layout for the entire book.

কুরআনের ঘটনাবলি

নবীদের সম্পূর্ণ ইতিহাস — মূল আরবি, বাংলা অনুবাদ ও সূরা-আয়াত রেফারেন্সসহ

আল্লাহ তাআলা বলেন: وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنۢبَآءِ ٱلرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِۦ فُؤَادَكَ
"রাসূলদের ঘটনা থেকে আমি তোমার কাছে যা বর্ণনা করি, তা দিয়ে তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি।" (সূরা হুদ ১১:১২০)

হযরত আদম আলাইহিস সালাম — সৃষ্টির সেরা মানুষ

🌿 ঘটনা ১: ফেরেশতাদের কাছে আদম সৃষ্টির ঘোষণা
📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩০
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ সূরা আল-বাকারা ২:৩০
রিপিট:
স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন — "আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) তৈরি করব।" ফেরেশতারা বলল — "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে রাখবেন যে বিপর্যয় ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে? আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবিহ করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি।" আল্লাহ বললেন — "আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।"
🌿 ঘটনা ২: আদমকে সমস্ত নামের জ্ঞান দান
📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩১-৩৩
وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلْأَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ فَقَالَ أَنۢبِـُٔونِى بِأَسْمَآءِ هَٰٓؤُلَآءِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ সূরা আল-বাকারা ২:৩১
রিপিট:
আল্লাহ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন। তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন — "যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে এগুলোর নাম বলো।"
قَالُوا۟ سُبْحَٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَآ إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ সূরা আল-বাকারা ২:৩২
রিপিট:
ফেরেশতারা বলল — "আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তার বাইরে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।"
قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ أَنۢبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ ۖ فَلَمَّآ أَنۢبَأَهُم بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّىٓ أَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ সূরা আল-বাকারা ২:৩৩
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "হে আদম! তাদের এগুলোর নাম বলো।" আদম তাদের সব নাম বলে দিলেন। তখন আল্লাহ বললেন — "আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন বিষয় জানি এবং তোমরা যা প্রকাশ করো ও যা গোপন রাখো তাও জানি?"
🌿 ঘটনা ৩: ফেরেশতাদের সিজদা ও ইবলিসের অবাধ্যতা
📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩৪ 📍 সূরা আল-আরাফ ৭:১১-১৩ 📍 সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭১-৭৮
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ সূরা আল-বাকারা ২:৩৪
রিপিট:
এবং যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম — "আদমকে সিজদা করো।" তখন সবাই সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করল এবং অহংকার করল। সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
وَلَقَدْ خَلَقْنَٰكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَٰكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ لَمْ يَكُن مِّنَ ٱلسَّٰجِدِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১১
রিপিট:
আমি তোমাদের সৃষ্টি করলাম, তারপর আকৃতি দিলাম, তারপর ফেরেশতাদের বললাম — "আদমকে সিজদা করো।" সবাই সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না।
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا۠ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍ সূরা আল-আরাফ ৭:১২
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "আমি আদেশ করার পরও তোমাকে কে সিজদা করতে বাধা দিল?" ইবলিস বলল — "আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে এবং তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।"
قَالَ فَٱهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَن تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَٱخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ ٱلصَّٰغِرِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৩
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তুমি এখান থেকে নেমে যাও! এখানে অহংকার করার অধিকার তোমার নেই। বের হয়ে যাও, তুমি অপমানিতদের দলের অন্তর্ভুক্ত।"
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى خَٰلِقٌۢ بَشَرًا مِّن طِينٍ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭১
রিপিট:
স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন — "আমি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করব।"
فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُوا۟ لَهُۥ سَٰجِدِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭২
রিপিট:
"যখন আমি তাকে পরিপূর্ণভাবে তৈরি করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সিজদায় পড়ে যাও।"
فَسَجَدَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৩
রিপিট:
তখন সমস্ত ফেরেশতা সকলে একসাথে সিজদা করল।
إِلَّآ إِبْلِيسَ ٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৪
রিপিট:
তবে ইবলিস ছাড়া — সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
قَالَ يَٰٓإِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَىَّ ۖ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْعَالِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৫
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "হে ইবলিস! আমি নিজ হাতে যাকে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোমাকে কে বারণ করল? তুমি কি অহংকার করলে, নাকি তুমি উচ্চ মর্যাদার অধিকারীদের একজন?"
قَالَ أَنَا۠ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৬
রিপিট:
ইবলিস বলল — "আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে এবং তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।"
قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৭
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "এখান থেকে বের হয়ে যাও। নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত (রাজিম)।"
وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلدِّينِ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৮
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "এবং নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমার উপর আমার অভিশাপ রইল।"
🌿 ঘটনা ৪: ইবলিসের অবকাশ প্রার্থনা ও মানবজাতিকে বিপথে নেওয়ার শপথ
📍 সূরা আল-আরাফ ৭:১৪-১৮ 📍 সূরা আল-হিজর ১৫:৩৬-৪৪ 📍 সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৯-৮৫
قَالَ أَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৪
রিপিট:
ইবলিস বলল — "আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন।"
قَالَ إِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৫
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো।"
قَالَ فَبِمَآ أَغْوَيْتَنِى لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَٰطَكَ ٱلْمُسْتَقِيمَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৬
রিপিট:
ইবলিস বলল — "আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন বলে, আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে বসব।"
ثُمَّ لَءَاتِيَنَّهُم مِّنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَٰنِهِمْ وَعَن شَمَآئِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَٰكِرِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৭
রিপিট:
"তারপর আমি তাদের কাছে আসব সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।"
قَالَ ٱخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَّدْحُورًا ۖ لَّمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكُمْ أَجْمَعِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৮
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত হয়ে বের হয়ে যাও। তাদের মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদের সকলকে দিয়ে আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।"
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ সূরা আল-হিজর ১৫:৩৬
রিপিট:
ইবলিস বলল — "হে আমার রব! আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন।"
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ সূরা আল-হিজর ১৫:৩৭
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো।"
إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ সূরা আল-হিজর ১৫:৩৮
রিপিট:
"নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত।"
قَالَ رَبِّ بِمَآ أَغْوَيْتَنِى لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ সূরা আল-হিজর ১৫:৩৯
রিপিট:
ইবলিস বলল — "হে আমার রব! আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন বলে, আমি তাদের জন্য পৃথিবীতে (পাপকাজকে) শোভনীয় করব এবং তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব।"
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ সূরা আল-হিজর ১৫:৪০
রিপিট:
"তবে তাদের মধ্যে আপনার মনোনীত (মুখলাস) বান্দারা ছাড়া।"
قَالَ هَٰذَا صِرَٰطٌ عَلَىَّ مُسْتَقِيمٌ সূরা আল-হিজর ১৫:৪১
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "এটিই আমার দিকে সরল পথ।"
إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَٰنٌ إِلَّا مَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ সূরা আল-হিজর ১৫:৪২
রিপিট:
"নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই — তবে বিপথগামীদের মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করে তারা ছাড়া।"
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ সূরা আল-হিজর ১৫:৪৩
রিপিট:
"নিশ্চয়ই জাহান্নাম তাদের সকলের প্রতিশ্রুত স্থান।"
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَٰبٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ সূরা আল-হিজর ১৫:৪৪
রিপিট:
"এর সাতটি দরজা আছে। প্রতিটি দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে একটি নির্ধারিত দল রয়েছে।"
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৭৯
রিপিট:
ইবলিস বলল — "হে আমার রব! পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।"
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮০
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো।"
إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮১
রিপিট:
"নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত।"
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮২
রিপিট:
ইবলিস বলল — "আপনার মর্যাদার কসম! আমি তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করবই।"
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮৩
রিপিট:
"তবে তাদের মধ্যে আপনার মনোনীত (মুখলাস) বান্দারা ছাড়া।"
قَالَ فَٱلْحَقُّ وَٱلْحَقَّ أَقُولُ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮৪
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তাহলে সত্যই হলো, আর আমি সত্যই বলছি।"
لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكَ وَمِمَّن تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ সূরা ছোয়াদ ৩৮:৮৫
রিপিট:
"আমি অবশ্যই জাহান্নামকে তোমাদের দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের সকলের দিয়ে পরিপূর্ণ করব।"
🌿 ঘটনা ৫: জান্নাতে আদম ও হাওয়া আ. — নিষিদ্ধ গাছের সতর্কতা
📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩৫ 📍 সূরা আল-আরাফ ৭:১৯ 📍 সূরা ত্বহা ২০:১১৫, ১১৭-১১৯
وَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ সূরা আল-বাকারা ২:৩৫
রিপিট:
আমি বললাম — "হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বাস করো এবং সেখানে যেখান থেকে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে খাও। কিন্তু এই গাছের কাছে যেও না, নইলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
وَيَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:১৯
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বাস করো এবং সেখানে যেখান থেকে ইচ্ছা খাও। তবে এই গাছের কাছে যেও না, নইলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
وَلَقَدْ عَهِدْنَآ إِلَىٰٓ ءَادَمَ مِن قَبْلُ فَنَسِىَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُۥ عَزْمًا সূরা ত্বহা ২০:১১৫
রিপিট:
আমি ইতঃপূর্বে আদমের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গেল। আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পেলাম না।
فَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ ٱلْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১১৭
রিপিট:
আমি বললাম — "হে আদম! এ (ইবলিস) তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সে যেন তোমাদের জান্নাত থেকে বের না করে দেয়, তাহলে তুমি কষ্টে পড়বে।"
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১১৮
রিপিট:
"নিশ্চয়ই এখানে তোমার ক্ষুধাও লাগবে না এবং নগ্নও হবে না।"
وَأَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا۟ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১১৯
রিপিট:
"এবং পিপাসাও পাবে না এবং রোদেও পুড়বে না।"
🌿 ঘটনা ৬: ইবলিসের কুমন্ত্রণা ও নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ
📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩৬ 📍 সূরা আল-আরাফ ৭:২০-২২ 📍 সূরা ত্বহা ২০:১২০-১২১
فَوَسْوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ لِيُبْدِىَ لَهُمَا مَا وُۥرِىَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ ٱلْخَٰلِدِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:২০
রিপিট:
তারপর শয়তান তাদের উভয়ের কাছে কুমন্ত্রণা দিল — তাদের লজ্জাস্থান যা ঢাকা ছিল তা প্রকাশ করে দেওয়ার জন্য। সে বলল — "তোমাদের রব তোমাদের এই গাছের কাছ থেকে শুধু এই কারণে নিষেধ করেছেন যে, তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা চিরজীবী হয়ে যাবে।"
وَقَاسَمَهُمَآ إِنِّى لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّٰصِحِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:২১
রিপিট:
সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করল — "আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী।"
فَدَلَّىٰهُمَا بِغُرُورٍ ۚ فَلَمَّا ذَاقَا ٱلشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ ٱلْجَنَّةِ ۖ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَآ أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَن تِلْكُمَا ٱلشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَآ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِينٌ সূরা আল-আরাফ ৭:২২
রিপিট:
এভাবে সে তাদের প্রতারণার মাধ্যমে (পাপের দিকে) টেনে নামাল। যখন তারা গাছের ফল খেল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে লাগল। তাদের রব তাদের ডেকে বললেন — "আমি কি তোমাদের এই গাছ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু?"
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ ٱلشَّيْطَٰنُ قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ ٱلْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১২০
রিপিট:
শয়তান আদমের কাছে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল — "হে আদম! আমি কি তোমাকে চিরজীবনের গাছ এবং এমন রাজত্বের কথা বলব যা কখনো শেষ হবে না?"
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ ٱلْجَنَّةِ ۚ وَعَصَىٰٓ ءَادَمُ رَبَّهُۥ فَغَوَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১২১
রিপিট:
তারপর তারা উভয়ে সেই গাছ থেকে খেল। তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে লাগল। আদম তার রবের নির্দেশ অমান্য করলেন এবং পথ হারালেন।
فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍ সূরা আল-বাকারা ২:৩৬
রিপিট:
শয়তান তাদের উভয়কে পদস্খলিত করে সেখান থেকে বের করে দিল — তারা যে (সুখের) অবস্থায় ছিল সেখান থেকে। আমি বললাম — "তোমরা নামো, তোমরা পরস্পরের শত্রু। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের আবাসস্থল ও জীবনোপকরণ রয়েছে।"
🌿 ঘটনা ৭: আদম আ.-এর তওবা, আল্লাহর ক্ষমা ও পৃথিবীতে অবতরণ
📍 সূরা আল-আরাফ ৭:২৩-২৫ 📍 সূরা আল-বাকারা ২:৩৭-৩৮ 📍 সূরা ত্বহা ২০:১২২-১২৩
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ সূরা আল-আরাফ ৭:২৩
রিপিট:
তারা উভয়ে বলল — "হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং রহম না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।"
(এটি কুরআনে শেখানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তওবার দোয়াগুলোর একটি।)
قَالَ ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍ সূরা আল-আরাফ ৭:২৪
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের আবাসস্থল ও জীবনোপকরণ রয়েছে।"
قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ সূরা আল-আরাফ ৭:২৫
রিপিট:
"সেখানেই তোমরা বাঁচবে, সেখানেই মরবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের উত্থান করা হবে।"
فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ সূরা আল-বাকারা ২:৩৭
রিপিট:
তারপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন এবং তওবা করলেন। আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
ثُمَّ ٱجْتَبَٰهُ رَبُّهُۥ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১২২
রিপিট:
তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তওবা কবুল করলেন এবং সঠিক পথ দেখালেন।
قُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ সূরা আল-বাকারা ২:৩৮
রিপিট:
আমি বললাম — "তোমরা সবাই নেমে যাও। যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়াত আসবে, যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।"
قَالَ ٱهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًۢا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًى فَمَنِ ٱتَّبَعَ هُدَاىَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَىٰ সূরা ত্বহা ২০:১২৩
রিপিট:
আল্লাহ বললেন — "তোমরা উভয়ে একসাথে নেমে যাও। তোমরা পরস্পর শত্রু। যখন আমার পক্ষ থেকে হেদায়াত আসবে, যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পড়বে না।"
📚 তাফসির ইবনে কাসির — বিশেষ বর্ণনা

আদমের সৃষ্টি — মাটির বিভিন্নতা: ইমাম আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণিত হাদিসে আবু মুসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন — "আল্লাহ আদমকে সমগ্র পৃথিবীর মাটি থেকে একটি মুষ্টি নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই আদমের সন্তানেরা পৃথিবীর মাটির মতোই ভিন্ন ভিন্ন — কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ এর মাঝামাঝি; কেউ নরম স্বভাবের, কেউ কঠিন, কেউ পরিষ্কার, কেউ মলিন।"

মাটির বিভিন্ন স্তর: ইবনে কাসির আরও উল্লেখ করেন যে কুরআনে আদমের সৃষ্টি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে — "তিন" (মাটি), "হামা মাসনুন" (কালো পচা কাদামাটি), "সালসাল" (শুকনো ঠনঠনে মাটি যা ঠুকলে শব্দ হয়) — এগুলো সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ: মাটি → পানি মিশ্রণ → ঢালাই → শুকানো → তারপর রূহ ফুঁকে দেওয়া।

ইবলিস ফেরেশতা ছিল না: ইবনে কাসির স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন — ইবলিস ফেরেশতা ছিল না, সে ছিল জিন। কিন্তু সে দীর্ঘদিন ধরে ফেরেশতাদের সাথে ইবাদত করায় সে সিজদার আদেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তার অহংকারের মূল কারণ ছিল — সে মনে করত আগুন মাটির চেয়ে উত্তম; এটি ছিল ইতিহাসের প্রথম অহংকার।

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সূরা বাকারা ২:৩০), কিসাসুল আম্বিয়া — ইবনে কাসির

✦ ✦ ✦

💡 হযরত আদম আ.-এর ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা

উস্তায নোমান আলী খান-এর লেকচার ও তাফসীর অবলম্বনে গভীর বিশ্লেষণ

দুজনেই ভুল করেছিল — পার্থক্য ছিল প্রতিক্রিয়ায়

আদম আ. এবং ইবলিস উভয়ই আল্লাহর নির্দেশ ভেঙেছিল। কিন্তু ইবলিস বলল "বিমা আগওয়াইতানি" — আপনিই দায়ী। আর আদম আ. বললেন "রাব্বানা যলামনা আনফুসানা" — আমরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছি। এই একটি পার্থক্যই একজনকে খলিফা বানাল, আরেকজনকে চিরশত্রু।

ইবলিসের "যুক্তি" — নিজের বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করা

ইবলিস বলেছিল "আগুন মাটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ" — তার কাছে এটি সত্যি মনে হয়েছিল। সবচেয়ে বিপজ্জনক পাপ সেটা নয় যা আমরা জেনে করি, বরং সেটা যেটাকে আমরা "ন্যায্য" ভেবে করি। আজও মানুষ আল্লাহর হুকুম ভেঙে বলে — "কিন্তু এক্ষেত্রে তো..." — এটাই ইবলিসের উত্তরাধিকার।

দায় এড়ানো — ইবলিস আল্লাহকেই দোষ দিয়েছিল

"বিমা আগওয়াইতানি" — "আপনিই আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।" ইবলিস নিজের দোষ স্বীকার না করে আল্লাহকে দায়ী করল। আজও আমরা বলি — "পরিস্থিতি ছিল এমন", "অন্যরা করেছে", "আমার কী করার ছিল?" — এটাই ইবলিসের মানসিকতা।

Self-image ফাঁদ — মর্যাদা রক্ষার জন্য ইবলিস তওবা করেনি

ইবলিস তওবা করেনি, কারণ তওবা মানে স্বীকার করা "আমি ভুল।" আর এটি তার "আমি সেরা" — এই self-image ভেঙে দিত। আজও অনেকে ভুল স্বীকার করতে পারে না শুধু এই কারণে যে "আমি কি এত ছোট?" সত্যিকারের শক্তি হলো ভুল মেনে নেওয়ার সাহস।

ইবলিসের ধোঁকার পদ্ধতি — ধীরে ধীরে, বন্ধু সেজে

কুরআনে "দাল্লাহুমা বিগুরুর" — ধীরে ধীরে কূপে বালতি নামানোর মতো। শয়তান হঠাৎ আসে না। প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে, শপথ করে "আমি তোমার মঙ্গল চাই", তারপর ধীরে ধীরে পথভ্রষ্ট করে। আজও এভাবেই কাজ করে — ছোট ছোট আপোষ থেকে শুরু।

জান্নাতি পোশাক ও লিবাসুত তাকওয়া

আদম ও হাওয়া আ. জান্নাতে পোশাকে ঢাকা ছিলেন। ইবলিস তাদের সেই পোশাক থেকে বঞ্চিত করল — তাদের মর্যাদা নষ্ট করল। আল্লাহ বললেন — "লিবাসুত তাকওয়া — তাকওয়ার পোশাক — এটাই সর্বোত্তম।" শরীরের পোশাক মানবিক মর্যাদার প্রতীক, আর তাকওয়া আত্মার পোশাক।

লজ্জা মানুষের ফিতরাত — শেখানো হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই এসেছে

ফল খাওয়ার পর কেউ শেখায়নি যে লজ্জা পেতে হবে — তারা নিজেরাই পাতা দিয়ে ঢাকলেন। লজ্জা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি। শয়তান চায় এই ফিতরাত নষ্ট করতে, উন্মুক্ততাকে "আধুনিকতা" বলে চালাতে। যে তার ফিতরাত হারায়, সে পশুর স্তরে নামে।

ভয় ও লোভ — ইবলিসের দুটি প্রধান অস্ত্র

ইবলিস আদম আ.-কে "চিরজীবন" ও "অক্ষয় রাজত্বের" লোভ দেখিয়েছিল। আজও শয়তান একইভাবে কাজ করে — "এই সুযোগ হাতছাড়া হলে জীবন শেষ", "এই চাকরি না নিলে কী হবে?" ভয় আর লোভ দিয়ে সে মানুষকে হারাম পথে নিয়ে যায়।

ইস্তিগফার — মানব জীবনের প্রথম ও সর্বোচ্চ শিক্ষা

পৃথিবীতে পাঠানোর আগে আল্লাহ আদম আ.-কে "কালিমাত" — তওবার বাক্য — শিখিয়ে দিলেন। পৃথিবীতে মানুষ ভুল করবেই। কিন্তু আল্লাহর সবচেয়ে বড় উপহার হলো তওবার দরজা। যে তওবা ছেড়ে দেয়, সে ইবলিসের পথে।

১০
পৃথিবী শাস্তি নয় — খিলাফতের দায়িত্ব

আল্লাহ শুরু থেকেই বলেছিলেন "ইন্নি জাআলুন ফিল আরদি খলিফাহ" — পৃথিবীতে খলিফা বানাব। পৃথিবীতে আসা শাস্তি নয়, এটি দায়িত্ব। আমরা পৃথিবীর মালিক নই — আমানতদার। পছন্দের স্বাধীনতা দিয়ে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করছেন।

১১
সেরা মানুষ সে নয় যে ভুল করে না — বরং যে তওবা করে

নবী ﷺ বলেছেন — "কুল্লু বনি আদামা খাত্তাউন, ওয়া খাইরুল খাত্তাইনা আত-তাওয়াবুন" — আদম সন্তান মাত্রেই ভুল করে, সেরা হলো যে তওবা করে। শয়তানের সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো মানুষকে বলা — "তুমি এত খারাপ যে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।" এই মিথ্যায় বিশ্বাস করো না।

১২
"কাছেও যেও না" — গাছ ও অশ্লীলতায় একই ভাষা, গভীরতম শিক্ষা

আল্লাহ আদম আ.-কে বললেন وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ — "গাছের কাছেও যেও না।" আর মানবজাতিকে বললেন وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ — "অশ্লীলতার কাছেও যেও না।" একই ভাষা! কারণ পাপের একটা পথ আছে — শয়তান সরাসরি নয়, ধীরে ধীরে ছোট ছোট পদক্ষেপে নিয়ে যায়। আল্লাহ পাপটা নয়, পাপের পথটাকেই বন্ধ করেছেন।

  • পাপ হঠাৎ হয় না — প্রতিটি পাপের একটা পথ আছে
  • শয়তান বিরামহীনভাবে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে — ছোট ছোট আপোষে অভ্যস্ত করিয়ে তারপর বড় পাপে টেনে নেয়
  • আজকের প্রয়োগ: অশ্লীল কন্টেন্ট, নিষিদ্ধ সম্পর্কের শুরু — এগুলো পথ, পাপ নয় এখনো। আল্লাহ বললেন এই পথেও যেও না।
অধ্যায় ২

End of Chapter 1 Preview

To read the remaining 24 chapters with complete stories of all prophets, please purchase the full ebook.

Unlock Full Book Now
⏳ Limited Time Offer

Start reading today!

Your purchased book will be safely stored in your account forever.

One-time payment

৳ 250
৳ 750 OFF

Lifetime Access • No recurring fees

Reading that respects the planet

No paper, no printing, no shipping. Your purchase produces zero physical waste — and your book is stored securely in your account forever. No storage space on your device needed.

Frequently Asked Questions

How many Prophets' stories are described in the Quran?
Muslims are required to believe in the 25 Prophets mentioned by name in the Holy Quran. This book arranges the complete stories of the 25 Prophets serially, along with special chapters on Ashab al-Kahf, Dhul-Qarnayn, and Ashab al-Fil.
Are the stories given with original Arabic?
Yes. Along with each event, the original Arabic text (Uthmani script, with Tashkeel), easy English translation, and Surah-Ayah number references are provided.
Will the events scattered in different Surahs be available together?
Yes. The specialty of this book is that the verses related to the Prophets scattered in different Surahs are arranged chronologically together, so the summary of the entire event can be understood.
Are there lessons at the end of each Prophet's story?
Yes. At the end of each event, key lessons for our daily lives are given. As a result, it can be read not just as a story, but for Islamic life philosophy and spiritual purification.

Quran Stories of Prophets — with Ayah References

৳ 250

৳ 750